Image description

পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘জিয়ানগর’ রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত নিকার-এর ১১৯তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনস্বার্থে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়, যা এখন গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

উপজেলাটির নামকরণের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর উপস্থিতিতে ‘জিয়ানগর’ উপজেলা হিসেবে এর উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নিকার সভায় নামটি পরিবর্তন করে পুনরায় ‘ইন্দুরকানী’ করা হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে আবারও পূর্বের নাম ‘জিয়ানগর’ পুনর্বহাল করা হলো।

এ বিষয়ে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি জিয়ানগরের ৩ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ‘জিয়ানগর’ নাম পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক অর্জনে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি জিয়ানগরবাসীর পক্ষ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নাম পরিবর্তন করেছিল। আমাদের প্রিয় নাম ফিরে পাওয়ায় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আজ আনন্দিত।” পুনরায় নাম পরিবর্তনের এই খবরে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর