Image description

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণত শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম থাকে, কিন্তু জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বোড়াই রহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো ও নজিরবিহীন চিত্র। মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই মাদ্রাসায় শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন! শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ও মাদ্রাসার মাঠ দখল করে সেখানে আলুর স্তূপ করে রেখেছেন খোদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটির পরিবেশ বর্তমানে শিক্ষা অর্জনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাগজ কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪৫ জন দেখানো হলেও বাস্তবে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। উপস্থিতির হার মাত্র ৩ শতাংশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অকার্যকর ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা বিমুখ হচ্ছে। এমনকি শিক্ষকদের নিজেদের সন্তানরাও এই মাদ্রাসায় পড়ে না, কিন্তু ভুয়া নাম ব্যবহার করে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসার বর্তমান চিত্র আরও ভয়াবহ। পরিচালনা কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ করে এবং মাঠ ব্যবহার করে সেখানে আলু মজুত করে রেখেছেন। মাদ্রাসার দপ্তরি জানান, বারবার অনুরোধ করলেও সভাপতি তাতে কান দেননি।

অনুসন্ধানের সময় গত ১ এপ্রিলের (বুধবার) হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এ সময় মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষিকা ও কমিটির সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য সুলতানা রাজিয়া উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলেন, “আপনাদের কেন হাজিরা খাতা দেখাতে হবে? আপনারা কে? আমরা খাতা দেখাতে বাধ্য নই।” মাদ্রাসার সুপারের সামনেই তিনি দীর্ঘক্ষণ অশালীন মন্তব্য ও অশোভন আচরণ চালিয়ে যান, অথচ সুপার এ সময় নীরব ভূমিকা পালন করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রবিউল ইসলামকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এই কমিটির বিষয়ে মাদ্রাসার সাধারণ অভিভাবক ও দাতা সদস্যরা কিছুই জানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, “আমি এই প্রতিষ্ঠানে এখনো যাইনি কারণ আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। তবে বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা জানান, বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর