Image description

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু দাবি করে এক বাংলাদেশি গৃহবধূকে তড়িঘড়ি করে প্রবাসেই দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এছাড়া নিহতের মায়ের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওয়ারিশন সনদ প্রদানের মাধ্যমে বিদেশে দাফন সম্পন্ন করার অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে। জানা যায়, ওই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ফারুক দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত। পরবর্তীতে তিনি তার স্ত্রী আয়েশা খাতুনকে সৌদিতে নিয়ে যান। ফারুকের দাবি অনুযায়ী, ওমরাহ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আয়েশা গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তবে ঘটনার মোড় ঘোরে যখন জানা যায়, আয়েশার মরদেহ দেশে না এনে সৌদিতেই দাফন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডলের সহায়তায় আয়েশার মা ও বৈধ অভিভাবক রানু বেগমের স্বাক্ষর জাল করে একটি ওয়ারিশন সনদপত্র তৈরি করে সৌদিতে পাঠানো হয়। ওই সনদের ভিত্তিতেই আয়েশাকে প্রবাসে দাফন করেন ফারুক।

নিহতের মা রানু বেগমের দাবি, তার মেয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। জামাতা ফারুক প্রথম থেকেই মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তথ্য দিচ্ছিলেন না এবং তাকে না জানিয়েই স্বাক্ষর জাল করে ওয়ারিশন সনদ তৈরি করা হয়েছে। রানু বেগমের এখন একটাই দাবি—মেয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক এবং নিজ গ্রামে দাফনের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল দাবি করেন, ওয়ারিশন সনদপত্রটিতে রানু বেগমের স্বাক্ষরের জায়গাটি ফাঁকা ছিল। তবে কীভাবে সেটি পরে পূরণ হলো বা ব্যবহৃত হলো, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. পপি খাতুন বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে যদি ওয়ারিশন সনদ জালিয়াতি বা অন্য কোনো সত্যতা পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না।”

প্রবাসে নিহত আয়েশার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে এখন উত্তাল পীরগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রাম। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকাতুর পরিবার ও এলাকাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর