Image description

জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে ৬টির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীসহ উপজেলাগুলোতে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট (২, ৩ এবং ৫), রাউজান-১ ও রাউজান-২ এবং জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অভাবেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় নগরীতে ওয়াসার পানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বাসা-বাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। তবে নগরীর চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা মফস্বল এলাকা বা উপজেলাগুলোতে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের আটটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছেন। অন্যদিকে, নগরীর পাথরঘাটা, হালিশহর, বায়েজিদ, কালুরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

বিদ্যুৎ সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি ও শিল্প খাতেও। সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কালুরঘাট ও বায়েজিদ শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে কারখানার উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বড় বড় অফিস ও কারখানায় জেনারেটর চালিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৪৩২ মেগাওয়াটের বেশি। খাতায়-কলমে ১৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখানো হলেও বাস্তবে এই ঘাটতি ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে স্থানীয় পত্রিকায় ‘উন্নয়ন ও মেরামত’ কাজের কথা বলে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, যাকে গ্রাহকরা লোডশেডিং আড়াল করার কৌশল বলে মনে করছেন।

চট্টগ্রাম পিডিবির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন জানিয়েছেন, ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণেই দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু এলাকায় জরুরি মেরামত কাজের জন্যও বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই