Image description

খুলনার দাকোপে ভ্যাপসা গরম আর পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে দাকোপের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রখর রোদের সঙ্গে গুমোট গরমে যখন ঘরে থাকা দায়, ঠিক তখনই শুরু হয় বিদ্যুতের অসহনীয় আসা-যাওয়ার খেলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, ফলে মানুষ নিরবচ্ছিন্ন ঘুম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যুতের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। 

এসএসসি পরীক্ষার্থী অভিষেক তরফদার বলেন, "রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর আসে না। এতে পড়াশোনায় প্রচুর সমস্যা হচ্ছে।"

অন্যদিকে বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা। ভ্যানচালক আব্দুল করিম ও আকবর সানা জানান, গরমে রাস্তায় মানুষের চলাচল কম, তার ওপর বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

পৌর এলাকার চা দোকানি খানজাহান আলী আক্ষেপ করে বলেন, "এমন গরম বাপের জন্মেও দেখি নাই। মন চায় দোকান বন্ধ করে গাছের তলায় শুয়ে থাকি। কিন্তু সেই সুযোগ নেই, কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না।" গৃহিণী লতিকা রায় বলেন, "কারেন্ট এই আসে এই যায়। ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই।"

ব্যবসায়ীরা জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজের মাছ, মাংস ও পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া তীব্র গরমে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেটের পীড়া ও জ্বর নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে দাকোপ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) ইকবাল আহমেদ জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় রোটেশন অনুযায়ী লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, "উপজেলায় ১০টি ফিডারের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা ৪৭ হাজার। আমাদের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৮.৩ মেগাওয়াট, কিন্তু বিপরীতে আমরা কখনো অর্ধেক বা তারও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এ কারণে বাধ্য হয়ে এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।" তবে দ্রুতই পরিস্থিতির সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর