ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, অন্যদিকে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম সংকটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এবার পরশুরাম উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছরের শ্রমের পর চূড়ান্ত পরীক্ষার এই সময়ে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিয়ে শঙ্কিত।
পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মোবারক হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, "প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। পড়ার টেবিলে বসা তো দূরের কথা, ঘরে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। যদি ফলাফল ভালো না হয়, তবে আমাদের পুরো ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।" পৌরসভার ছয়ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা নাজনীন বলেন, "গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে অন্তত ১২-১৫ বার লোডশেডিং হচ্ছে। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এই গরমে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৩৩ থেকে ৩৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে।
এ বিষয়ে পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আখতার নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, "চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অত্যন্ত কম হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিচ্ছি। আমি যা বরাদ্দ পাই তা পুরো উপজেলায় সুষমভাবে বণ্টন করার চেষ্টা করি। এর বাইরে আমার কিছু করার নেই।"
এ সময় তিনি অনেকটা ক্ষোভের সাথেই বলেন, "বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো আমার কাজ নয়। সরকারের উচিত ছিল আব্দুল্লাহ আল মিন্টুর মতো ব্যক্তিদের এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া, কারণ তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে ভালো বুঝেন।"
বিদ্যুৎ সংকটের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরশুরামের সাধারণ মানুষ ও শংকিত অভিভাবকরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments