বীরগঞ্জে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কয়েকশ একর ফসলি জমি। প্রবল দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে বোরো ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে জানা গেছে, শনিবার রাতের এই ঝড়ে উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর গ্রামসহ শিবরামপুর, মোহাম্মদপুর ও সুজালপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় পাকা ও আধা-পাকা বোরো ধান বাতাসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া ভুট্টার গাছ ভেঙে পড়া এবং মৌসুমি শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
প্রাণনগর গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, "সারা বছর হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে এই ধান ফলাইছি। আর মাত্র কয়েকটা দিন গেলেই ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে আমার সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখছি।"
একই গ্রামের কৃষক বাদল ইসলাম জানান, ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে তিনি ধান ও ভুট্টার চাষ করেছিলেন। ঝড়ে ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, "কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ফসলের ক্ষতির খবর আমরা পেয়েছি। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করব।"
প্রকৃতির এই আকস্মিক দুর্যোগে বীরগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments