Image description

সবুজ ধানক্ষেতের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি তালগাছ। আর সেই গাছের পাতায় পাতায় ঝুলছে শিল্পী পাখি হিসেবে পরিচিত বাবুই পাখির নিপুণ কারুকার্যখচিত অসংখ্য বাসা। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কাচাকুল গ্রামের এই নান্দনিক দৃশ্য এখন পথচারী ও স্থানীয়দের নজর কাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতের আইলে থাকা তালগাছটিতে সারি সারি বাসা বুনেছে বাবুই পাখিরা। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন সবুজ পাতার ফাঁকে ছোট ছোট দোলনা ঝুলছে। হালকা বাতাসে যখন বাসাগুলো দুলতে থাকে, তখন এক অপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়।

পাখি দেখতে আসা দুই বোন রিফাহ ও রোশনি জানায়, প্রতি বছর এই মৌসুমে বাবুই পাখিরা এই তালগাছটিতে বাসা তৈরি করে। তারা বলে, "প্রতিদিন বিকেলে আমরা এই পাখিদের বাসা বানানোর দৃশ্য দেখতে আসি। পাখিদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা আছে, তাই আমরাও রাস্তার পাশে ও ক্ষেতের আইলে তালগাছ রোপণ করি।"

স্থানীয় পরিবেশকর্মী রাসেল আহমেদ বলেন, "বাবুই পাখির বাসা প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। খড়, ঘাস আর তন্তু দিয়ে তারা যে নিখুঁত স্থাপত্য তৈরি করে, তা সত্যিই মুগ্ধকর। তবে বর্তমানে তালগাছ কমে যাওয়ায় এই ‘স্থপতি পাখি’দের আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তালগাছ রক্ষা ও নতুন করে রোপণ করা এখন সময়ের দাবি।"

ক্ষেতলাল উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মতিয়র রহমান জানান, "বাবুই পাখি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ায় না, তারা ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষকের পরম বন্ধু হিসেবে কাজ করে। আমরা স্থানীয়দের মাঝে গাছ রোপণ ও পাখিদের আবাসস্থল রক্ষার বিষয়ে সচেতনতামূলক কাজ করছি।"

বিকেল হলেই গ্রামের শিশু-কিশোরসহ উৎসুক মানুষ ভিড় করেন এই দৃশ্য উপভোগ করতে। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন প্রকৃতির এক জীবন্ত পাঠশালা। কাচাকুল গ্রামের এই তালগাছটি কেবল একটি গাছ নয়, বরং গ্রামবাংলার শাশ্বত রূপ ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর