যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে খুন হওয়া বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদরের মেয়ের মরদেহটি শেষবারের মতো দেখার আকুতিতে মাদারীপুরের গ্রামের বাড়ি ও ঢাকার বাসায় চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একটাই দাবি—মরদেহটি খুঁজে বের করে যেন দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন ওরফে দিল মোহাম্মদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার মেয়েটা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ গিয়েছিল। এখন শুধু তাকে একবার শেষবারের মতো দেখতে চাই। ওর মা আর ভাই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে শুধু কাঁদছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া, যেন দ্রুত ওর মরদেহটা খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।”
নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তবে তাঁর বাবা পেশাগত কারণে দীর্ঘ দিন ধরে পরিবারসহ ঢাকার মিরপুরে বসবাস করছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৭ এপ্রিল বৃষ্টির সাথে তাঁর সহপাঠী লিমনও নিখোঁজ হন। জহির উদ্দিন জানান, “লিমনের বাসা থেকে পুলিশের উদ্ধার করা একটি খণ্ডিত দেহাংশ বৃষ্টির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করেনি। আমরা ফোনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি।”
শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী বৃষ্টি ছিলেন পরিবারের গর্ব। ঢাকার মিরপুরের নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে গোল্ডেন জিপিএ-৫ নিয়ে এসএসসি এবং শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে একই ফল নিয়ে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বুয়েটে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। এর মাঝেই ফুল স্কলারশিপ পেয়ে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট পিএইচডির উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।
নিহতের চাচা দানিয়াল আকন বলেন, “বৃষ্টি ছিল আমাদের এলাকার গর্ব। সে এভাবে খুনের শিকার হবে তা আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। প্রয়োজনীয় আবেদন পেলে প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনার সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।” মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে আইনি ও দাপ্তরিক সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃষ্টির সহপাঠী জামিল লিমনের মরদেহ আগেই উদ্ধার করেছে মার্কিন পুলিশ। এ ঘটনায় জামিলের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments