Image description

তীব্র তাপদাহ থেকে বাঁচতে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত তিন দিনে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, গুল আহম্মদ ও বড়কুমিরা এলাকায় পৃথক এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একের পর এক এমন বিয়োগান্তক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় নানা বাড়িতে পুকুরে ডুবে তাইফুল ইসলাম ইসবাত (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে গুল আহম্মদ এলাকার দক্ষিণ মোল্লাপাড়ার মো. আরিফ হাসান ইলিয়াসের ছেলে।

এর আগে গত শনিবার দুপুরে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আরিজা বিনতে সোহেল (৩) নামে এক কন্যা শিশু পুকুরে ডুবে মারা যায়। নিহত আরিজা ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রাশেদের ভাই ও জাহাজভাঙা শিল্প ব্যবসায়ী মো. সোহেলের একমাত্র সন্তান ছিল। প্রতিবেশীরা জানান, দুপুরে উঠানে খেলার সময় সবার অগোচরে সে পুকুরে পড়ে যায়। দুপুর আড়াইটার দিকে পুকুরে লাশ ভেসে উঠলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন।

অন্যদিকে, গত শুক্রবার বিকেলে কুমিরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতপুর এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন কলোনির পাশে একটি পুকুরে ডুবে মারা যায় আরও দুই শিশু। তারা হলো—কিশোরগঞ্জ জেলার মো. মাসুদের ছেলে আবদুল্লাহ (৪) ও ময়মনসিংহ জেলার আব্দুল মালেকের মেয়ে সীমা আক্তার (৯)। তাদের পরিবার জীবিকার প্রয়োজনে ওই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। স্থানীয়রা জানান, বিকেলে প্রচণ্ড গরমে পরিবারের অগোচরে পুকুরে গোসল করতে নেমে দুজনেই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে পুকুরে লাশ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পরপর তিন দিনে সীতাকুণ্ডে পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী। তীব্র গরমের কারণে শিশুরা বড়দের অগোচরে জলাশয়ে নেমে এই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর