দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা আলেদা বেওয়া (৭০) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজের আপন নানিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নাতি। এ ঘটনায় নিহতের নাতিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামের মো. নাজমুল হুদা শান্ত (২৬), একই এলাকার মো. ফজলে রাব্বি (২৯) এবং মো. মুশফিকুর রহমান রাজ (৩৮)। শান্ত নিহত আলেদা বেওয়ার আপন নাতি।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল বিকেলে পূর্ব পালশা গ্রামে নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন আলেদা বেওয়া। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রহস্য উদ্ঘাটনে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ইউনিট এবং ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং এতে করে তাঁরা বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতেই তাঁরা চুরির পরিকল্পনা করেন। গত ২১ এপ্রিল সকালে স্থানীয় ডুগডুগি বাজারে বসে তাঁরা নানি আলেদা বেওয়ার বাড়িতে চুরির ছক কষেন।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওইদিন বিকেলে শান্ত বাড়ির বাইরে পাহারায় থাকেন এবং রাব্বি ও রাজ ঘরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট শুরু করেন। এ সময় বৃদ্ধা আলেদা বেওয়া জেগে গেলে ও তাঁদের চিনে ফেললে তিনজন মিলে তাঁকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তাঁরা নিহতের কান ও গলা থেকে স্বর্ণের হার, এক জোড়া বালা, চেইন, কানের দুল এবং রুপার নূপুর নিয়ে পালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত সব স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments