Image description

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ন্যায্যমূল্যের ১৫ টাকা কেজির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার শাহজাহান মুন্সীর বিরুদ্ধে এক কার্ডধারীকে তাঁর প্রাপ্য চাল না দিয়ে উল্টো বাজারদরে তা কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি গত কয়েকদিন ধরে ডিলারের কাছে চাল নিতে গেলেও তাঁকে রিক্ত হস্তে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিলার তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, “এই মাসে আর চাল পাবেন না।” অথচ পরবর্তীতে ওই ডিলারই তাঁকে ১৫ কেজির এক বস্তা চাল ১২০০ টাকায় কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই চালের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু ডিলার আমার প্রাপ্য চাল না দিয়ে আমাকে বঞ্চিত করেছেন। ন্যায্যমূল্যে চাল চাইতে গিয়ে আমি উল্টো প্রতারণার শিকার হয়েছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার শাহজাহান মুন্সীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ১২০০ টাকায় চাল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি নিজের সাফাই গেয়ে দাবি করেন, “নির্ধারিত মাসে চাল না নিলে পরে আর তা দেওয়ার নিয়ম নেই।”

এদিকে স্থানীয় গ্রাহক কামাল গাজী ও রাসেল ইসলাম জানান, তাঁরা নির্ধারিত সময়ে চাল পেয়েছেন। তবে শফিকুল ইসলামের মতো প্রকৃত সুবিধাভোগীরা কেন বঞ্চিত হচ্ছেন এবং কেন তাঁদের কাছে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিলাররা নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে ঘুরিয়ে পরে সেই চাল কালোবাজারে বা বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা করেন। সরকারি এই জনহিতকর কর্মসূচিতে এমন অনিয়মের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই অনিয়মের সাথে জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে দরিদ্র মানুষের হকের চাল নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর