পপকর্ন বিক্রি করে ফিরছিলেন দম্পতি, ছিনতাইয়ের পর স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ
রাজশাহীর চারঘাটে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা এক দম্পতির ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। টাকা ছিনতাইয়ের পর স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে চারঘাট মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার হাশেমপুর গ্রামের ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ণ বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন। রাতে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ণ বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর তাদের পপকর্ণ বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন, যিনি চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সরদহ স্টেশন মাস্টার ইকবাল কবির বলেন, রাতে যখন স্টেশনের পাশে ঘটনাটি ঘটে তখন স্টেশনে মাত্র তিনজন স্টাফ দায়িত্বে ছিল। তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।




Comments