Image description

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গভীর রাতে সরকারি বই, মূল্যবান নথিপত্র ও বৈদ্যুতিক পাখা পাচারকালে একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাদ্রাসার একটি কক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১ নম্বরের একটি পিকআপ ভ্যানে মালামাল লোড করতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যেখানে দেখা যায় মাদ্রাসার নতুন-পুরানো বই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বেশ কিছু বৈদ্যুতিক পাখা গাড়িতে তোলা হচ্ছে। উপস্থিত জনতা মালামালের গন্তব্য জানতে চাইলে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা জানান, এগুলো শিক্ষা অফিসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গভীর রাতে শিক্ষা অফিসে মালামাল নেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় জনতা গাড়িটি আটকে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালসহ পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন, নজির হোসেন এবং নাইটগার্ড মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতেই মালামাল লোড করা হচ্ছিল। তবে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষকরা দ্রুত সটকে পড়েন। ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন স্বীকার করেন যে, মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলামের মৌখিক অনুমতিতেই এসব মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, "অফিসের কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করা হয়েছে। গোছাতে দেরি হওয়ায় রাতে গাড়ি ছাড়া হয়েছে।" তবে সরকারি সম্পদ বা বই বিক্রির কোনো বৈধ অনুমতি বা দরপত্রের নথিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মাদ্রাসায় অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ দীর্ঘদিনের সমস্যা। কয়েক বছর আগে পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকার কোনো দৃশ্যমান কাজ না করে সম্পূর্ণ অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। তৎকালীন সময়ে সংবাদকর্মীরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষকরা তাদের লাঞ্ছিত ও অপদস্ত করেন। এছাড়া ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি ২১৫০ টাকার বিপরীতে ৪০০০ থেকে ১১০০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদানসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছিল।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, জব্দকৃত পিকআপ ও মালামাল বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "সরকারি বই বা কোনো সম্পদ কমিটির সিদ্ধান্ত ও দরপত্র ছাড়া এভাবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যারা এই চুরির সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।"

লাখাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আক্তার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর