Image description

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন ও বেটিং অ্যাপের প্রলোভনে পড়ে শিক্ষার্থী, তরুণ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এই ভয়াবহ নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। সহজে ও দ্রুত টাকা আয়ের আশায় শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, যার ফলে বাড়ছে পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতা।

সরেজমিনে জানা যায়, ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনো ও বেটিং অ্যাপের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণ মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় এই মরণনেশা এখন মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে।

পৌর এলাকার এক চায়ের দোকানি সোহেল জানান তার তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “এক কাস্টমারকে খেলতে দেখে কৌতূহলবশত ৩০০ টাকা দিয়ে শুরু করি। প্রথম দিনেই ১ হাজার ২০০ টাকা জেতার পর নেশা চেপে যায়। এখন অবস্থা এমন যে, প্রতিদিন দোকানের আয়ের বড় অংশ জুয়ায় চলে যায়। লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হয়েছে। এক সময়ের ভরা দোকানটি এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।”

কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, অনলাইন জুয়ার প্রভাবে ভেঙে পড়ছে অনেক সাজানো সংসার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগীর স্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “স্বামী সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকেন। টাকা হারলে মেজাজ খিটখিটে থাকে, তুচ্ছ ঘটনায় বাড়িতে অশান্তি করেন। সংসারের শান্তি এই জুয়া কেড়ে নিয়েছে।”

এ বিষয়ে শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুনজুরুল মোরশেদ বলেন, “মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। তবে অনলাইন জুয়া ব্যক্তিগত স্মার্টফোনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এটি চিহ্নিত করা কিছুটা কঠিন। তারপরও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অনলাইন জুয়ার এই বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। অন্যথায় উপজেলার একটি বিশাল অংশ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর