Image description

যশোরের কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি, মোবাইল কোর্টের প্রতিবেদন এবং ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলার রিপোর্টসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর জাহিদ হাসান শোভনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং সেবাপ্রার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, জাহিদ হাসান শোভন এই অফিসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। টাকা ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়ে না। নামজারি (খারিজ) করতে সরকারি ফির বাইরে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। টাকা দিতে না চাইলে আবেদন 'ত্রুটিপূর্ণ' দেখিয়ে মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয় অথবা কোনো নোটিশ ছাড়াই খারিজ করে দেওয়া হয়।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান এসি ল্যান্ড যোগদানের পর প্রায় ১৮৭১টি নামজারি আবেদন কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই গণহারে নামঞ্জুর বা খারিজ করা হয়েছে। অনেক আবেদনকারী জানতেই পারেননি কেন তাদের আবেদন বাতিল হলো। অভিযোগ রয়েছে, এসি ল্যান্ডের অফিশিয়াল আইডি এবং অনলাইন কার্যক্রমের একটি বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করেন এই কম্পিউটার অপারেটর।

নামজারি ছাড়াও ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলার প্রতিবেদন এবং মোবাইল কোর্টের নথি দ্রুত পেতে হলে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ কৃষকদের সাথে শোভন অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি আবেদন করলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হলেও দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। ঘুষ লেনদেনের ভিডিও এবং ছবিও স্থানীয়দের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ জমি কেনা-বেচা, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ বা আইনি লড়াইয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ হাসান শোভনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, "আবেদনগুলো অনেক পুরনো হওয়ায় সেগুলো খারিজ করা হয়েছে। অফিসের কোনো কর্মচারী অপরাধ করলে এবং তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

স্থানীয় সচেতন মহল এই দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর