Image description

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোরবানির পশুর ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ১৪ হাজার ৭৯২টি খামারে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৫টি গবাদি পশু কোরবানির জন্য হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, খামারের পশুর পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের লালন-পালন করা পশু যুক্ত হলে জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার। খামারিদের প্রস্তুতকৃত পশুর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে আসা পশু এই চাহিদা পূরণ করবে। উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সদর উপজেলায় ২৯ হাজার ৬৭৫টি, সরাইলে ২১ হাজার ৫৯৮টি, নাসিরনগরে ১৩ হাজার ২৯৮টি, কসবায় ১৪ হাজার ৭৫টি এবং বিজয়নগরে ১৩ হাজার ২২২টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, আশুগঞ্জ ও আখাউড়াতেও পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

সরেজমিনে খামারগুলো ঘুরে দেখা যায়, মালিক ও শ্রমিকরা নাওয়া-খাওয়া ভুলে পশুর যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পৌর এলাকার গোকর্ণঘাটের ‘নিউ প্রিন্স ডেইরি ফার্মে’র মালিক মো. নাসির উদ্দিন জানান, তার খামারে ২০০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২০টি ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াই, তাই প্রতিবছরই ক্রেতারা আগেভাগে এসে গরু বুকিং দিয়ে যান।”

নয়নপুর গ্রামের ‘রূপচান্দা বিবি ডেইরি খামারে’র পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদ জানান, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা এবার বেশি। তবে পশুখাদ্য ও ধানের কুঁড়ার দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। খামারিদের আশঙ্কা, যদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে, তবে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।

খামারিদের এই আশঙ্কার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, “ভারতীয় গরু যাতে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নজরদারি করতে বলা হয়েছে। খামারিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। এছাড়া এবার অনেক ক্রেতা সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর