মানিকগঞ্জে ফারুক দেওয়ানের ত্রাসের রাজত্বের অবসান, গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কার
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের ভয়ের রাজত্ব কায়েম করা ফারুক হোসেন দেওয়ান অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং নৃশংস হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর পদ কেড়ে নিয়েছে নিজ দল। বর্তমানে তাঁর গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও সাধারণ মানুষের দাবি—দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযুক্ত ফারুক হোসেন দেওয়ান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আটিগ্রাম ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় তিনি একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। জমি দখল থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই চলত তাঁর ইশারায়।
সবশেষ গত ২০ মে তাঁর পৈশাচিক হামলার শিকার হন ষাটোর্ধ্ব নাসির উদ্দিন ও তাঁর পুরো পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধে ফারুক দেওয়ান ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে জড়িয়ে পড়েন। তখন নাসির উদ্দিনের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের সামনেই তাণ্ডব চালিয়েছিল ফারুকের বাহিনী। সে সময় রাজনৈতিক প্রভাবে নিজের লোকজনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উল্টো আহত নাসির উদ্দিনকেই জেলে পাঠান তিনি।
১৬ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে গত ২০ মে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরলে পুনরায় তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ফারুকের বাহিনী। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাসির উদ্দিন (৬২), তাঁর স্ত্রী রওশন আরা (৫০), ছেলে মেহেদী (৩০), মুকুল (২৫), মেয়ে নাসরিন (৩২) ও তিশাকে (১৮) রক্তাক্ত করা হয়। এদের মধ্যে নাসির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে মেহেদীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নাসির উদ্দিনের ছেলে মুকুল হাসান বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান আসামি ফারুক দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করে। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আ.ফ.ম. নূরতাজ আলম বাহার বলেন, "দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মের কোনো সুযোগ নেই। ফারুক দেওয়ানকে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
ফারুক দেওয়ানের বিরুদ্ধে অপরাধের তালিকা বেশ দীর্ঘ। গত বছরের ৩১ আগস্ট মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রিয়াজউদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ ফল ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলা ও অবাধ্যদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিনের ভয়ের রাজত্ব থেকে মুক্তির পর এলাকাবাসী এখন ফারুক ও তাঁর সহযোগীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments