Image description

প্রতীকি ছবি

সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমে উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজন সিলেট নগরের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং দুজন এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত শিশুদের মধ্যে দুজনের বয়স এক বছরের কম এবং একজনের বয়স ১৪ মাস (১ বছর ২ মাস)।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৮ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৩ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৮ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ল্যাব পরীক্ষায় ৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জন রোগী ল্যাব টেস্টে শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি একই সময়ে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব পরীক্ষায় ১৬৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে চারজনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি শিশুরা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তাদের অধিকাংশই হৃদরোগ, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জন্ডিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিল। যার কারণ হিসেবে শিশুদের পুষ্টিহীনতার অভাবকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ওসমানী মেডিকেলে ২০টি এবং শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ১৪টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী বেড সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।