Image description

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠভর্তি সবুজ লাউ, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং উৎপাদনের সাফল্য থাকলেও দাম নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন তারা। 

কৃষকদের অভিযোগ, রাজধানী ঢাকা ও দেশের বড় বড় পাইকারি আড়ত নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, শত শত লাউ নিয়ে কৃষকরা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু আড়তদার ও ফড়িয়ারা প্রতিটি লাউয়ের দাম মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা প্রস্তাব করছেন। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে দাবি কৃষকদের।

দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “আমরা ভোর থেকে লাউ নিয়ে বাজারে আসি। আড়তদাররা দাম বলে ৫ টাকা। অথচ শুনি সেই লাউ ঢাকায় গিয়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমাদের কষ্টের ফসলের লাভ অন্যরা নিয়ে যাচ্ছে। সিন্ডিকেটের কাছে আমরা অসহায়।”

আরেক কৃষক আব্দুল করিম জানান, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ এবং শ্রমিকের খরচ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তিনি বলেন, “ফসল ভালো হয়েছে, কিন্তু বাজার ভালো না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর অনেক কৃষক লাউ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।”

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন এলাকা থেকে সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে কৃষক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলেও ভোক্তাদের উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী জানান, চলতি বছরে দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিশ্রমে ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন এলাকা থেকে সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষক সমবায়ভিত্তিক বাজারজাতকরণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় উৎপাদনে সাফল্য এলেও কৃষকের অর্থনৈতিক দুর্দশা দূর হবে না।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকার দ্রুত বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি করে আড়তদার সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিক, যাতে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়েই ন্যায্য সুবিধা পেতে পারেন। বর্তমানে বাম্পার ফলনের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে ন্যায্য মূল্যের অভাবে—এমনটাই বলছেন দুর্গাপুরের লাউচাষিরা।