কুমিল্লার লাকসামে এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) তাঁর নিজ ঘর থেকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের ৩৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. মাসুদ (৩২) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা। এর আগেও গত ফেব্রুয়ারিতে ওই কিশোরীকে অপহরণ করেছিলেন তিনি। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটার পর মাত্র ১০ দিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বেরিয়েই তিনি পুনরায় এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটালেন।
গত সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র লোক নিয়ে ওই কিশোরীর বাড়িতে হামলা চালান। তাঁরা ঘরের প্রধান ফটক ভেঙে এবং ছাদ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে কিশোরীর বাবা-মাকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এরপর দ্বিতীয় তলা থেকে ওই কিশোরীকে চ্যাংদোলা করে নিচে নামিয়ে আনেন। যাওয়ার সময় আলমারি ভেঙে নগদ ১৭ লাখ টাকা এবং ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে বাড়ির আঙিনায় বহু মানুষের উপস্থিতিতে কিশোরীকে কাঁধে করে ভবন থেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কিশোরীর বাবা অত্যন্ত অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘এর আগেও মাসুদ আমার মেয়েকে তুলে নিয়েছিল। পুলিশ ১৭ দিন পর উদ্ধার করে। জামিনে বের হয়ে সে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। আমার বাড়িতে ৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, যেখানে তাদের সব অপকর্মের ছবি রেকর্ড হয়েছে। আমি দ্রুত আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই এবং এই সন্ত্রাসীদের কঠোর বিচার চাই।’
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপহরণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments