Image description

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সাত বছরের এক এতিম শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটলেও প্রভাবশালী মহলের ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার পর শনিবার (৬ জুন) দুপুরে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, বছরখানেক আগে শিশুটির বাবা মারা যান। মা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সে নানার বাড়িতে থাকত। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাগাঁও পশ্চিম পাড়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে শাকিব (১২) এবং রণি মিয়ার ছেলে রিসান (১৩) শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে কলাগাঁও নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে সেখানে ফেলে পালিয়ে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তারা পুলিশ বা জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়ে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে রেখে আসে। কিন্তু গত দুই দিন ধরে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। আজ শনিবার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে দুপুরে স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদ আলম সাদ্দাম বলেন, "ধর্ষণকারীদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। দুই দিন ধরে শিশুটি ব্যথায় কাতরালেও তাকে হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি। আমরা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর