বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয় বাসিন্দারা
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের রামরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধ পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি পাহারায় নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (১০ জুন) সকাল থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন গ্রামবাসী। পুশইনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কাঁটাতারের বেড়া পার করে ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ রেখে যায় বিএসএফ। খবর পেয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেন। এসময় বিজিবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কয়েকশ গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের দিকে আসার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী ও বিজিবি তাকে বাধা দেয়, আবার ভারতের দিকে ফিরতে চাইলে বিএসএফ বাধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ১০টার দিকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
বর্তমানে ওই ব্যক্তি সীমান্তরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। বিএসএফ যেন পুনরায় তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে না পারে, সেজন্য বিজিবি কঠোর নজরদারি রাখছে এবং স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, "গত কয়েকদিন ধরেই এই সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চলছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments