সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিনা অনুমতিতে উধাও হওয়া সেই নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সংবাদ প্রকাশের মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় শুক্রবার ভোরে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নবজাতককে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা চালক কাওছার ও তার স্ত্রী কল্পনা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ছাতক ও শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শান্তিগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বাদউল্লাহপুর গ্রাম থেকে প্রথমে চালক কাওছারকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে কালারুকা বাজার সংলগ্ন কাওছারের নানা বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কল্পনা বেগমের কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। আটক দম্পতি দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৮ জুন সন্ধ্যায় ছাতক সদর ইউনিয়নের আন্ধারীগাঁও সড়কের পাশ থেকে এক সপ্তাহ বয়সী ওই ছেলে শিশুটিকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন চালক কাওছার। অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কাওছার ও তার স্ত্রী সেখানে দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। শিশুটির অসহায়ত্বের কথা শুনে অনেক মানুষ হাসপাতালে এসে তাদের আর্থিক সহযোগিতা করেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নবজাতকসহ ওই দম্পতি উধাও হয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকটিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান জানান, শিশুটিকে দত্তক নিতে ইতোমধ্যে ১১টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ফয়সল আহমদ ও রোকশানা দম্পতিকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরিফিন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করে বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অধীনে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহি উদ্দিন জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও আবেদনের সত্যতা যাচাই করে যোগ্য দম্পতির হাতেই নবজাতককে তুলে দেওয়া হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments