নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে সরকারি কোয়ার্টারের বারান্দার গ্রিলে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতি গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সরকারি কর্মচারী মো. সুমন মিয়া (৩৮) বাদী হয়ে খালিয়াজুরী থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— কলমাকান্দা থানার ওয়াজেদ আলী ফকির এবং খালিয়াজুরী মুসলিমপাড়ার জাহাঙ্গীর (৩৮)।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. সুমন মিয়া খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত। তিনি সপরিবারে উপজেলা স্টাফ কোয়ার্টারের ‘যমুনা’ ভবনের নিচ তলায় বসবাস করেন। বেশ কিছুদিন আগে অভিযুক্তরা বাদীর অনুমতি ছাড়াই তাঁর বারান্দার মেইন সুইচ থেকে নিম্নমানের তার দিয়ে কোনো নিরাপদ সার্কিট ব্রেকার ছাড়াই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে পাশে কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করে। বাদী ও তাঁর স্ত্রী এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক সেই ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ বহাল রাখে। একপর্যায়ে লাইনটি বিচ্ছিন্ন করা হলেও তারা আবারও গোপনে সংযোগটি স্থাপন করে।
গত ০৬ জুন (শনিবার) কোরবানি ঈদের ছুটি কাটিয়ে সপরিবারে বাসায় ফেরেন সুমন মিয়া। দুপুরে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বারান্দার গ্রিলে থাকা গামছা নিতে গেলে গ্রিলটি বিদ্যুতায়িত থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁর চিৎকার শুনে স্ত্রী মোছা. হাসনাহেনা তাঁকে উদ্ধার করতে মেইন সুইচ বন্ধ করার চেষ্টা করলে বারান্দার গ্রিলের সাথে হাত লেগে তিনিও গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। সে সময় ঘরে থাকা সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বড় মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস (১৩) তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে নিজে গ্রিল স্পর্শ না করে চিৎকার শুরু করে এবং ছোট দুই ভাইবোনকে আগলে রাখে। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে অচেতন অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতদের প্রথমে খালিয়াজুরী উপজেলা হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে সুমন মিয়ার ডান হাত এবং তাঁর স্ত্রীর বাম হাতের তালু ও ডান পা গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে।
ভুক্তভোগী সুমন মিয়া বলেন, ‘অভিযুক্তদের খামখেয়ালিপনার কারণে আজ আমাদের পুরো পরিবারটি শেষ হয়ে যেতে পারত। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
খালিয়াজুরী থানা পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments