Image description

গাছ কাটার অজুহাতে দীর্ঘ এক বছর ধরে আটকে আছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজিপুর-গগনপুর সড়কের সংস্কার কাজ। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের এই সড়কে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তীব্র খানাখন্দ আর ধুলোবালির কারণে সড়কটি এখন যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুকনো মৌসুমে ধুলার কুয়াশা আর বর্ষায় কর্দমাক্ত অবস্থার কারণে এই পথে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়াও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন বিকল হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি টেকসই ও প্রশস্ত করার জন্য প্রায় এক বছর আগে দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সড়কের দুপাশের গাছ অপসারণ করা জরুরি হলেও বন বিভাগ, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মধ্যে সমন্বয়হীনতায় বিষয়টি ঝুলে আছে। সড়কের দুপাশের ৫৩৪টি গাছের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও তা কাটার আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

পত্নীতলা উপজেলা বিএমডিএ-র নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ্ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম বলেন, "রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের জন্য এলজিইডি থেকে চিঠি পাওয়ার পর আমরা ৫৩৪টি গাছের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রাক্কলন প্রস্তুতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।"

তবে বিলম্বে দায় অস্বীকার করে পত্নীতলা উপজেলা বন কর্মকর্তা এ কে এম ফরহাদ জাহান দাবি করেন, "চিঠি দেওয়ার এক বছর হয়নি, তারা কিছুদিন আগে চিঠি দিয়েছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক কাজ চলছে।"

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, "সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ। দুপাশের গাছ অপসারণের জন্য আমরা বিএমডিএ এবং বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। তারা আমাদের জানিয়েছে অতিশীঘ্রই গাছ কাটা হবে। গাছ কাটা সম্পন্ন হলেই আমরা মূল কাজ শুরু করতে পারব।"

দ্রুত সব দপ্তরের সমন্বয়ের মাধ্যমে নজিপুর-গগনপুর সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর