ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান, কমছে শিক্ষার্থী
দাকোপের গোড়া ডাঙ্গামারী ফরেস্ট স্কুল ভবন এখন ‘মরণফাঁদ’
খুলনার দাকোপ উপজেলার প্রত্যন্ত বানিশান্তা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে অবস্থিত গোড়া ডাঙ্গামারী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯১ সালে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির ভবন এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ‘মরণফাঁদে’ রূপ নিয়েছে। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও নিরুপায় হয়ে এই জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। যার ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
সরেজমিনে ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চার কক্ষ বিশিষ্ট এই একতলা ভবনটি ২০০১ সালে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৫১ জন শিক্ষার্থী এবং প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক রয়েছেন। উপকূলীয় এলাকার লোনা আবহাওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাত্র দুই দশকের মাথায় ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়, আর গরমে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এক অজানা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিথিকা রায় ও সবুজ মল্লিক বলেন, "ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একদমই কম। অনেক অভিভাবক ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। ছাদ থেকে যখন-তখন পলেস্তারা খসে পড়ে। মনে হয় এই বিদ্যালয়ের দুর্দশা দেখার কেউ নেই।"
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুলায়মান ঢালী জানায়, ক্লাসে বসার পর ছাদ থেকে সিমেন্টের টুকরো খসে পড়ে। বৃষ্টি হলে বইখাতা ভিজে যায়। তারা খুব ভয়ের মধ্যে ক্লাস করে। এছাড়া স্কুলের শৌচাগারটির অবস্থাও বেহাল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল কুমার মন্ডল জানান, ২০১৯ সালে তিনি এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নতুন ভবনের জন্য চেষ্টা করছেন। এর আগে সাবেক শিক্ষকরাও আবেদন করেছেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। একাধিকবার দাপ্তরিকভাবে ভবনটির দুরবস্থার কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিকার মেলেনি। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেক্সোনা আক্তার বলেন, "আমি এখানে নতুন এসেছি। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টি সামান্য সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নতুনভাবে একটি আবেদন দিলে আমরা সেটি পিইডিপি-৪ বা ৫-এর আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাবো এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments