Image description

গাইবান্ধায় টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। শহরের অধিকাংশ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই শহর যেন নদীতে পরিণত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি না হলেও শহরের মাস্টার পাড়া, মুন্সি পাড়া, খাঁ পাড়া, কাচারী বাজারের চুড়িপট্টি, সচীন চাকী সড়ক ও ভিএইড রোডের কে.এন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো এখনো পানির নিচে। অনেক বাড়িতে ড্রেনের নোংরা পানি প্রবেশ করায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা। কোথাও ড্রেন উঁচু আবার কোথাও নিচু হওয়ায় পানি নামতে পারছে না। এছাড়া ড্রেনের ওপর স্লাব থাকলেও ভেতরে আবর্জনা জমে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে নোংরা পানি দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিব ও নাফিজ জানায়, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলিয়ে যায়, এতে স্কুলে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক রেজা বলেন, "টানা বৃষ্টির পর পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এই সমস্যা নিরসনে জরুরি ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।" কলেজপাড়ার বাসিন্দা আজিমউদ্দিন অভিযোগ করেন, পৌরসভার উদাসীনতা ও অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের ফলেই প্রতি বছর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হানিফ জানান, শহরের পাড়া-মহল্লার ড্রেনগুলো অত্যন্ত সরু। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা এই ড্রেনগুলোর নেই। এছাড়া অনেক স্থানে ড্রেনের মুখে জাল বা বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের করা প্রধান সড়কগুলো নিচু এলাকার তুলনায় উঁচু হওয়ায় পানি নামতে বাধা পাচ্ছে। জায়গার সংকটের কারণেও অনেক এলাকায় বড় ড্রেন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তারা এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর