কুলিয়ারচরে কুখ্যাত ছিনতাইকারী ইমনসহ গ্রেফতার ৪, নিখোঁজ যুবক ২ বছর পর উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দীর্ঘ এক দশকের আতঙ্ক ও ২১ মামলার আসামি কুখ্যাত ছিনতাইকারী ইমনকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে দুই বছর ধরে ‘গুম’ হওয়ার নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে থাকা এক যুবককে উদ্ধার এবং এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ইমন কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গাইলকাটা এলাকার মৃত জামাল মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ২০১১ সাল থেকে ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধারায় ২১টি মামলা রয়েছে। অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির এই আসামিকে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। অবশেষে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ইমনসহ শাহাদাত হোসেন শান্ত (২৮) ও হৃদয় মিয়া (৩২) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ।
একই অভিযানে পুলিশ মোস্তফা কামাল (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে, যিনি গত ২ বছর ধরে নিখোঁজ বা গুম ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। মোস্তফা কামালের বাড়ি শেরপুর জেলায় হলেও তিনি বর্তমানে কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় থাকতেন। জানা গেছে, অর্থ লেনদেনের জেরে মোস্তফা কামাল আত্মগোপনে গিয়ে জামান মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা করান তার মাকে দিয়ে। ওই ‘মিথ্যা’ মামলায় জামান মিয়া দীর্ঘ ৪ মাস জেল খেটে বর্তমানে জামিনে আছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল হক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ জুলাই দিবাগত রাতে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করেন।
এদিকে, তুচ্ছ ঘটনার জেরে জুয়েল মিয়া (২০) নামে এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। নিহত জুয়েল উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ও বড়চরা এলাকার কয়েকজন যুবকের সাথে পূর্ব বিরোধের জেরে শুক্রবার বিকেলে জুয়েলকে আটকে এলোপাথাড়ি মারধর করে বখাটেরা। গুরুতর আহত অবস্থায় জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত ইমনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টসহ ২১টি মামলা রয়েছে। মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জুয়েল হত্যার ঘটনায় এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments