মধুপুরে ‘আফ্রিকান জায়ান্ট শামুক’ এর উপদ্রব, আতঙ্কে স্থানীয়রা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় ভিনদেশি ও আক্রমণাত্মক প্রজাতির ‘আফ্রিকান জায়ান্ট শামুক’ (African Giant Snail)-এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। গত কয়েক মাস ধরে লোকালয়ে এই শামুকের অস্বাভাবিক উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দ্রুত বংশবিস্তারকারী এই শামুক সবজি খেত ও ফলগাছের কচি পাতা খেয়ে সাবাড় করায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, আগে এসব শামুক মূলত গভীর পাহাড়ি এলাকায় দেখা গেলেও বর্তমানে মধুপুর পৌর শহরসহ অরণখোলা, কুড়াগাছা, বেরিবাইদ, আউশনারা ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলা আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত স্থানে লুকিয়ে থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই শত শত শামুক বাড়ির আঙিনা, দেয়াল, রাস্তা ও ফসলের খেতে হানা দিচ্ছে।
কুড়াগাছা এলাকার বাসিন্দা মহসিন বলেন, "সন্ধ্যার পর বাড়ির চারপাশ ও গাছে অসংখ্য বড় বড় শামুক দেখা যায়। এগুলো সবজি ও ফলগাছের কচি পাতা খেয়ে ফেলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত।" অরণখোলার আব্দুল কাদের জানান, তার সবজি খেতের প্রচুর গাছ ইতোমধ্যে এই শামুক নষ্ট করে ফেলেছে। কৃষি বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকান জায়ান্ট শামুক বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিকর প্রজাতি। এটি শুধু কৃষিরই ক্ষতি করে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে। এই শামুকের মাধ্যমে কিছু পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, যা বিরল ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের মতো জটিল রোগের কারণ হতে পারে। তাই এই শামুক খালি হাতে স্পর্শ না করা এবং স্পর্শ করলে দ্রুত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষিজীবী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, দ্রুত কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই ক্ষতিকর শামুক দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় কৃষিজ উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments