নীলফামারীর সৈয়দপুরে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা। সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ধারাবাহিক তৎপরতায় একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সর্বশেষ গত রোববার (১২ জুলাই) গভীর রাতে শহরের মিস্ত্রি পাড়া মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে প্রায় ছয় হাজার টাকা মূল্যের সার্ভিস তার কেটে নিয়ে গেছে চোরেরা। বাড়ির মালিক জানান, রাতে বৃষ্টির সুযোগে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মুন্সিপাড়া এলাকায় মহিলা কলেজ সংলগ্ন জাভেদ-নাজনীন দম্পতির বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগের তার এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার চুরি হয়। বারবার তার চুরির ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
একইভাবে চুরির প্রভাব পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও। শহীদ ক্যাপ্টেন মিধা শামসুল হুদা সড়কের (বিমানবন্দর সড়ক) স্ট্রিট লাইটের তার চুরি হওয়ায় রাত নামলেই ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। সেনানিবাস ও বিমানবন্দরে যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি অন্ধকার থাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয় শিক্ষক এহসানুল কবির বলেন, "বারবার তার চুরির কারণে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে, যা নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।"
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) জানিয়েছে, গত দুই মাসে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ লাইনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার কপার তার চুরি হয়েছে।
নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, "চুরি হওয়া কপার তার অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এভাবে তার চুরি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা করা হয়েছে।"
চোর চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বৃদ্ধাশ্রম বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। গত শনিবার রাতে শহরের উপকণ্ঠে মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রমের সার্ভিস লাইনের তার চুরি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সেখানকার প্রবীণরা। সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন জানান, শুধু তার নয়, মিটার ও পানির মোটর চুরির ঘটনাও বাড়ছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, "তার চুরির বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে পুলিশের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। পৌরসভা থেকে চুরি হওয়া স্থানে দ্রুত লাইট ও তার মেরামতের কাজ চলছে।"
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, চুরি প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন চোরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments