Image description

স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার হলেও খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী, বানিয়াশান্তা, কামারখোলা, তিলডাঙ্গা ও পানখালীসহ ৯টি ইউনিয়নের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ ও প্রধান সড়ক এখনো পাকা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই দীর্ঘ কাঁচা সড়কের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কগুলো চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এই অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীবেষ্টিত দাকোপ উপজেলার কালীনগর বাজার থেকে দক্ষিণে সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী অভিমুখী এবং বানিয়াশান্তা ইউনিয়নের ঢাংমারী এলাকার একমাত্র প্রধান সড়কটি বৃষ্টির পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া পানখালী, তিলডাঙ্গা, কামারখোলা ও বাজুয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু সংযোগ সড়কের একই অবস্থা। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার বড় বড় গর্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও কৃষকদের। বর্ষায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষকে পায়ে হেঁটে অথবা নদীপথে ট্রলারে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এলজিইডির আওতাধীন মোট ৭৬৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৮৬ কিলোমিটার এখনো কাঁচা। এর মধ্যে সুতারখালী ইউনিয়নে ৫২.১৪ কিমি, কামারখোলায় ৫৫.৬৭ কিমি, বানিয়াশান্তায় ২৬.৩৮ কিমি, বাজুয়ায় ১৭.৫৭ কিমি, তিলডাঙ্গায় ৫৫.১৩ কিমি এবং পানখালী ইউনিয়নে ৫০.৭০ কিমি সড়ক কাঁচা রয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিন বিশ্বাস ও মাহমুদুল হাসান আলমগীর আক্ষেপ করে বলেন, "সামান্য বৃষ্টিতে সড়কগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। জরুরি রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। দেশের সব জায়গায় উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকা এখনো অবহেলিত।" স্থানীয় সংবাদকর্মী বিধান চন্দ্র ঘোষ জানান, আধুনিক বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কাঁচা থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক, যা শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনীতিকে ব্যাহত করছে।

দাকোপ উপজেলা প্রকৌশলী ইমরান আহমেদ খান জানান, অনেকগুলো সড়কে ইট সলিং ও কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান আছে। নতুন বরাদ্দ আসলে পর্যায়ক্রমে বাকি কাঁচা সড়কগুলো পাকাকরণের আওতায় আনা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, "মাটির রাস্তার কারণে বৃষ্টির সময় মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি হয়। জনস্বার্থ বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর