Image description

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় বন্যা ও নদীভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বুবুলির চর ও খাটিয়ামারী চরে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। চলমান বন্যার মধ্যেই ভাঙনের মুখে পড়ে গত কয়েকদিনে প্রায় ৪০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। এই স্রোতের আঘাতেই তাসের ঘরের মতো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বুবুলির চর ও খাটিয়ামারী চরের একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। বন্যাকবলিত অবস্থায় ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া দুর্গত মানুষের জন্য এক চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়া এসব পরিবার এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উঁচু রাস্তা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবার কোনো উপায় না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে আরও শত শত পরিবার।

নিঃস্ব হওয়া আলম মোল্লা নামের এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, "একদিকে ঘরের ভেতর বন্যার পানি, অন্যদিকে নদীর ভাঙন। কোনোরকমে জানটা নিয়া ঘরদোর ভাইঙা চইলা আসছি। এখন কোথায় যাব, কী খাব—তার কোনো ঠিক নাই। আমাদের দুর্ভোগের আর শেষ নাই।"

বন্যা আর ভাঙনের দ্বৈত আঘাতে এই দুই চরের মানুষের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অবিলম্বে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্য ও পুনর্বাসন সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর