ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের ভালুম এলাকায় বংশী নদীর ওপর নির্মিত স্টিলের বেইলি সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়া এবং দুই পাশের সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও ভারী যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বারবার জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে নির্মিত এই সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। সেতুর দুপাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাস আগেই সেতুর মাঝের স্টিলের পাটাতন ভেঙে একটি মালবাহী ট্রাক আটকে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নামমাত্র মেরামত করে দিলে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। তবে বর্তমানে সেতুটির স্টিলের পাত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতের সময় বিকট শব্দ হয়, যা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী ইমাম ও আবুল হোসেন বলেন, “এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ কালামপুর ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। প্রায়ই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহেও পাটাতন ভেঙে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত এখানে একটি টেকসই নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”
সিএনজি চালক সামাদ জানান, বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্টিলের ব্রিজের ওপর উঠলেই ভয়ে বুক কাঁপে, কখন জানি ভেঙে নিচে পড়ে যাই।
এ বিষয়ে ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই বেইলি সেতুর পরিবর্তে একটি আরসিসি সেতু নির্মাণ এবং কালামপুর থেকে পাড়াগ্রাম পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার জন্য তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বরাবর চাহিদা পত্র প্রদান করেছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, “সেতুটি কয়েক মাস আগেও মেরামত করা হয়েছে। এটি স্থায়ীভাবে ভেঙে নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। ইতিমধ্যে নকশা তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই নতুন সেতুর কাজ শুরু হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments