Image description

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সীতাকুণ্ডের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানিবন্দি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (১৫ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার কুমিরা এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত ৩০০ ত্রিপুরা পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম নিজে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এসব পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেন।

ত্রাণ বিতরণকালে কুমিরা পাহাড়, সোনাইছড়ির আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড় এবং বার আউলিয়ার ফুলতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন ইউএনও। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের আশ্বাস দেন। ত্রাণ সামগ্রীর পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ত্রিপুরাবাসীদের মাঝে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিতরণ করা হয়।

সীতাকুণ্ড পৌর সদরসহ সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, মুরাদপুর, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ গত পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় বসতঘরে পানি ঢুকে চুলা জ্বালাতে না পারায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। এসব এলাকায় ইউএনও নিজে গিয়ে শুকনো খাবার, চাল, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, "টানা বৃষ্টির কারণে খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাজে যেতে পারছে না। অনেকের ঘরে পানি ঢোকায় রান্নার পরিবেশ নেই। আমরা খবর পাওয়ামাত্রই সেসব এলাকায় শুকনো ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আজ ৩০০টি ত্রিপুরা পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার তামান্না, প্রকল্প বাস্তবায়ন সহকারী কর্মকর্তা রুবেল দাশ, সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন কান্তি ভৌমিক, ছাত্রদল নেতা এডভোকেট আবদুর রহিম, ট্যাগ অফিসার মিত্রা বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুরুল করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর