বড়াইগ্রামে এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় আটকা অর্ধলাখ মানুষের ভাগ্য
নাটোরের বড়াইগ্রামের মানই থেকে নাজিরপুরগামী মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার ৮ গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে বর্ষা মৌসুমে বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, বড়াইগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৮টি গ্রামের বাসিন্দারা মানই-নাজিরপুর রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল কেনাবেচার জন্য বড়াইগ্রামের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র জোনাইল বাজারে যাওয়ার এটিই একমাত্র পথ। এছাড়া মানই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয় ও জোনাইল সেন্ট লুইস উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই পথেই যাতায়াত করে। সড়কের দুই পাশ পাকা থাকলেও মানই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নাজিরপুর নজরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ দিনেও পাকা করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো রাস্তাটি এখন কাদা আর পানিতে একাকার। একটু পরপর বড় বড় গর্ত। রাস্তার বেহাল দশার কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে স্যান্ডেল-জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে কাদা মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। জোনাইল হাটে পণ্য নেওয়ার জন্য মালামাল বোঝাই অটো-রিকশা বা ভটভটি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় অটো-রিকশা চালক আব্দুল বাসেত বলেন, "কাদার কারণে এই রাস্তায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাত্রী নিয়ে ঢুকলে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। এই এক কিলোমিটার পথের জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।"
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, "রাস্তার দুই পাশ পাকা থাকলেও মাঝখানের এই সামান্য অংশটুকু আমাদের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা এলে আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। আমরা সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ বলেন, "জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রাস্তাটি পাকা করার প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments