Image description

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন মাঠে (পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ) আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬-এ দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ থাকলেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি মিশরীয় ‘বারহি’ জাতের খেজুর গাছ। মাত্র চার বছর বয়সী এই গাছটির দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। ব্যতিক্রমী এই গাছটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শতশত দর্শনার্থী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় বৃক্ষমেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলার বিভিন্ন স্টলে কয়েকশ প্রজাতির গাছ থাকলেও সাভারের ডিসি নার্সারির প্রদর্শিত এই খেজুর গাছটি নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। গাছটির চারপাশে দর্শনার্থীদের জটলা লেগেই আছে; কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার গাছটির বৈশিষ্ট্য ও ফলন সম্পর্কে বিস্তারিত জানছেন।

ডিসি নার্সারির স্বত্বাধিকারী দীপক কুমার নাথ জানান, এটি মিশরের অত্যন্ত জনপ্রিয় বারহি জাতের খেজুর গাছ। গাছটির বয়স প্রায় চার বছর এবং বর্তমানে এতে পাঁচটি ঝোপে (কাঁদি) প্রচুর খেজুর ধরেছে। উন্নত পরিচর্যা, বিরল জাত এবং সরাসরি ফলসহ প্রদর্শনের কারণে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। তিনি বলেন, “মানুষকে উন্নতমানের বিদেশি ফল চাষে উৎসাহিত করতেই আমরা এটি মেলায় এনেছি। মেলা শেষ হওয়ার আগেই গাছটি কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।”

মেলায় ঘুরতে আসা গাজীপুরের ফেরদৌস মিয়া বলেন, “বিদেশি জাতের এমন খেজুর গাছ আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। ৭ লাখ টাকা দাম শুনে অবাক হলেও গাছটি দেখতে সত্যিই চমৎকার। এটি আমাদের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।” মালয়েশিয়া প্রবাসী দর্শনার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, গাছটির মালিক তাঁকে খেজুরের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, যা তাঁর কাছে দারুণ লেগেছে।

এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং কোনো প্রবেশ টিকিটের প্রয়োজন নেই।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মেলায় রাম্বুটান, পারসিমন, আজওয়া খেজুর, পাকিস্তানি আনার এবং বিভিন্ন উন্নত জাতের আমের চারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত বছর মেলায় প্রায় ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়েছিল। এবারও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং বিক্রির হার সন্তোষজনক।

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য মেলায় পুলিশ ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও মা ও শিশু কর্নার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, চিকিৎসাসেবা এবং প্রবীণদের জন্য বিশ্রামকক্ষসহ নানা আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর