হালুয়াঘাটে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফিরছে প্রায় দেড় কোটি টাকা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি খালের পুনঃখনন কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সাশ্রয় হওয়া প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশিষ কর্মকার, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আশিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াহ্ইয়া খান চৌধুরী হালুয়াঘাট উপজেলার ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নের করইকান্দা খাল এবং ৪নং সদর ইউনিয়নের কচুন্দরা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। দুটি প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা।
প্রকল্প দুটির আওতায় মোট ৮.৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। এতে ৫০৫টি শ্রমিক কার্ডের মাধ্যমে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তাঁদের দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি প্রদান করা হয়। খনন কাজে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৩১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহারে ৪৯ লাখ ২ হাজার ৬৮৮ টাকা খরচ হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়সহ মোট খরচ হয়েছে ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৮ টাকা। ফলে বরাদ্দের বড় একটি অংশ অর্থাৎ ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার ১১৬ টাকা সাশ্রয় হয়েছে, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করইকান্দা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং কচুন্দরা খাল প্রকল্পে ৬৩ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
ইউএনও ফয়সাল আহমদ বলেন, “একসময় করইকান্দা খালটি প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। পুনঃখননের ফলে খালটি এখন তার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি ও পানি নিষ্কাশনে বড় ভূমিকা রাখবে। কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি সাংবাদিকদের সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনেরও আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশিষ কর্মকার জানান, বর্ষাকালে কৃষিকাজের চাপ কম থাকায় শ্রমিক সংকট ছাড়াই কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং খালের পাড় রক্ষায় দুই পাশে ৬০০টি ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments