ভোলার সদর জজ আদালতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন ফকিরের (৪২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসারপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাহাবুদ্দিন ফকির বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে। তিনি ২০০৪ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ ২২ বছরের চাকরি জীবনে বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ ভোলা সদর জজ আদালতে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার আদালতে শাহাবুদ্দিনের ডিউটি থাকলেও তিনি যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। সহকর্মীরা একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে কল দিলেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা অফিসারপাড়ার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে ভোলা সদর মডেল থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে সামনের কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। জানা গেছে, শাহাবুদ্দিন ওই বাসায় একাই থাকতেন; তাঁর স্ত্রী ১০ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রায় তিন মাস আগে একমাত্র মেয়ের অকাল মৃত্যু সইতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ মে এসএসসি পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়াকে কেন্দ্র করে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র মেয়ে তৈয়বা জাহান চৈতি (১৬) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে তিনি নিজেও আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments