বাঘাইছড়িতে ট্রান্সফর্মার সংযোগ দিতে ‘ঘুষ’ দাবি, বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও হয়রানি মুক্ত সেবার দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। দুই মাস ধরে বিদ্যুৎহীন থাকা একটি এলাকায় নতুন ট্রান্সফর্মার বসাতে আবাসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ দাবি ও টাকা নিয়েও কাজ না করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কার্যালয়ে শতাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহক অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়ম ও আবাসিক প্রকৌশলী সুগত চাকমার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে।
বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে গত দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার আবাসিক প্রকৌশলী সুগত চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন ট্রান্সফর্মার সরবরাহের নাম করে প্রকৌশলী সুগত চাকমা তাদের কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে স্থানীয়রা চাঁদা তুলে তাকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করলেও তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা অফিস ও আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করতে বাধ্য হন।
গ্রাহকরা আরও অভিযোগ করেন, আবাসিক প্রকৌশলী ঠিকমতো অফিস করেন না এবং গ্রাহকদের ফোন ধরেন না। এছাড়া মিটার রিডিং না দেখেই প্রতি মাসে ‘ভুতুড়ে বিল’ পাঠিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করা হয় বলেও তারা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বাঘাইছড়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী সুগত চাকমা বলেন, "আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকট রয়েছে। জেলা সদর থেকে নতুন ট্রান্সফর্মার পরিবহণ করে আনতে কিছু আনুষঙ্গিক খরচ হয়। আর স্থানীয়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেও কাজে দেরি হয়েছে। তবে আমি আগামী রোববারের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি।"
বাঘাইছড়ি থানার পুলিশ জানায়, উত্তেজিত গ্রাহকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রকৌশলী আগামী তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না হলে গ্রাহকরা পুনরায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments