Image description

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় নায়ফা ট্রেড বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিকাশের ইলেকট্রনিক অর্থ (ই-মানি) ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থের মধ্যে ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা উদ্ধার এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নায়ফা ট্রেড বিডির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. আল আমিন (২১) ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়া শাখার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ইউসুফ রায়হান (২৪)। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান অন্তর নামে আরও এক ডিএসও জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ, যিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে আল আমিন বিকাশের লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ই-মানি উত্তোলনের কথা বলে প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজারের কাছে ওটিপি (OTP) চান। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরল বিশ্বাসে ওটিপি প্রদান করেন। তবে অফিস সময়ের পর ওটিপি চাওয়ায় সন্দেহ হলে বিষয়টি দ্রুত প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপককে জানানো হয়।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আশুলিয়ার জামগড়া বঙ্গ মার্কেট এলাকায় ইউসুফ রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনের চিত্রশাইল এলাকা থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওটিপি ব্যবহার করে আল আমিন ১ কোটি ৫ লাখ টাকা মাস্টার ওয়ালেটে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে ৬৫ লাখ টাকা ইউসুফ রায়হানের বিকাশ ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন ও ইউসুফ স্বীকার করেছেন যে, পলাতক জাহিদ হাসানসহ তারা তিনজন মিলে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাদের কাছ থেকে ৪২ লাখ ও ৩০ লাখ মিলিয়ে মোট ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

নায়ফা ট্রেড বিডির এজিএম ইফরান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা অর্থ আত্মসাৎ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত পুলিশকে খবর দিলে তাদের আটক করা সম্ভব হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, "অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধার এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর