ধামরাইয়ে মাদকাসক্ত স্বামীর পিটুনিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু
ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে পপি রাণী সরকার (২৮) নামে তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত পপি রাণী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। অভিযুক্ত লিটন সরকার পেশায় একজন সিএনজি চালক এবং তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত লিটন সরকার বিয়ের পর থেকেই পপি রাণীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। রোববার দুপুরের দিকে সাত বছর বয়সী বড় ছেলের সামনেই স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটান লিটন। মারধরের এক পর্যায়ে পপি রাণী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পাষণ্ড স্বামী তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রাখেন। পরে রাতে পপির অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লিটন নিজেই তাকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পপি রাণীকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্থানীয়দের হাতে আটক ঘাতক স্বামী লিটন সরকারকে থানায় নিয়ে আসে।
ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments