Image description

ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে দৌলতখান উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

বুধবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টায় দৌলতখান উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নিজাম ভুঁইয়া।

লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি দৌলতখান পৌরসভার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. হাফিজ ইব্রাহিম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই অনুষ্ঠানে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশের প্রচলিত পৌর আইন অনুযায়ী পৌর এলাকার বাস, ট্রাক, অটোরিকশাসহ করযোগ্য যানবাহন থেকে নির্ধারিত পৌর কর আদায় নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্যের একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং মনে করা হয় তিনি নতুন করে কর আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ তিনি নতুন কোনো কর আরোপের কথা বলেননি; বরং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নিয়মিত কর আদায় নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বক্তব্যের আংশিক অংশ প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার শুধু একজন জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং পৌর প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পৌরসভার আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী না হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সড়কবাতি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য অপসারণসহ বিভিন্ন মৌলিক নাগরিক সেবা ব্যাহত হতে পারে। এ কারণেই আইন অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, আইন অনুযায়ী কর আদায় এবং নতুন কর আরোপ—এ দুটি বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ দুটিকে এক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।