Image description

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাবেক প্রেমিকের চরম প্রতারণার শিকার হয়ে দুই-দুইটি বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর এবার মীম আক্তার (২২) নামের এক তরুণী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রেমিক রাব্বী মুসল্লীর স্বজনদের হাতে নির্মমভাবে মারধরের শিকার হওয়ার পর গত দুই দিন ধরে ওই তরুণীর কোনো সন্ধান মিলছে না। এ ঘটনায় নিখোঁজ মীমের পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন।

নিখোঁজ তরুণীর মা, পাথরঘাটার বাসিন্দা নূরজাহান বেগম জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকার আঃ রহিম মুসল্লীর ছেলে রাব্বীর সাথে তার মেয়ে মীম আক্তারের দীর্ঘ তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাব্বীর পরিবার তাতে অসম্মতি জানায়। নিরুপায় হয়ে পরিবার মীমকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। কিন্তু বিয়ের পর রাব্বী বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিলে সেই সংসারটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে রাব্বীর পরিবারকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, এক বছর পর মীমকে বরিশালের বানারীপাড়া এলাকার লেবানন প্রবাসী মোঃ আরিফুল বেপারীর সাথে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেওয়া হয়। এবারও রাব্বী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সে অন্য লোক দিয়ে ওই প্রবাসীর মেসেঞ্জারে তাদের পূর্বের সম্পর্কের বিভিন্ন ছবি ও ডকুমেন্টস পাঠায়, যার ফলে মীমের দ্বিতীয় বিয়েটিও ভেঙে যায়। দিশেহারা মীম কোনো উপায় না পেয়ে সপ্তাহখানেক আগে রাব্বীদের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। কিন্তু রাব্বীর পরিবার তাকে মেনে না নিয়ে গত রবিবার সকালে বেদম মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই মীমের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে তদন্তে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা রানী বেগম জানান, ঘটনার দিন তিনি মেয়েটির মুখ থেকে রক্ত পড়তে দেখেছিলেন। কারণ জানতে চাইলে মীম জানিয়েছিলেন— রাব্বীর মা, বোন সুমি আক্তার এবং রাব্বীর এক খালাতো বোন তাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরাও মীমকে মারধরের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রামিম গাজী জানান, "একটি মেয়েকে এভাবে বাড়ি থেকে মারধর করে নামিয়ে দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। রাব্বীর পরিবারের উচিত ছিল বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অথবা প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ফয়সালা করা।"

বর্তমানে মীমের পরিবার তাদের মেয়ের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ডিআর