অনুমোদন ছাড়াই আশুলিয়ায় চলছে শিশু খাদ্য উৎপাদন, সাংবাদিক প্রবেশে বাধা
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ‘কাউ বয় ফুডস কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে কারখানাটিতে শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোরও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে গেলে সাংবাদিকদের কারখানায় প্রবেশে বাধা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ।
আশুলিয়ার কাঠগড়া উত্তরপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে গেলে সাংবাদিকদের পথরোধ করেন প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আরিফুল ইসলাম সোহাগ। তিনি জানান, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের কথিত সদস্য সচিব সোহেল রানার অনুমতি ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সোহেল রানার নাম ব্যবহার করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেল রানা নিজেকে প্রেসক্লাবের নেতা পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি আশুলিয়া প্রেসক্লাবের কোনো সদস্য নন। স্থানীয়দের দাবি, সোহেল রানা আগে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন এবং বর্তমানে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার নির্দেশেই কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ‘কাউ বয় ফুডস কোম্পানি লিমিটেড’-এর বৈধতা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম প্রশ্ন। কারখানাটিতে নেই কোনো ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ ছাড়পত্র।
আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যাম সুন্দর মণ্ডল নিশ্চিত করেছেন যে, এই নামে কোনো ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা সাহাজুর রহমান জানান, ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হোসেন জানান, সম্ভবত এই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।
শিশু খাদ্য উৎপাদনের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোদন না থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আরিফুল ইসলাম সোহাগের কাছে অনুমোদনের নথিপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন এবং মালিকের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো অনুমোদন ছাড়াই শিশু খাদ্য উৎপাদন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। দ্রুত এই কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে শিশু খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ডিআর




Comments