সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৪টি শক্তিশালী পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আরিফ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের তিনতলা বাড়িতে যৌথ অভিযান চালান। পরে উদ্ধার করা বোমাগুলোর মধ্যে পাঁচটি রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলেই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেন সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, ওই বাড়িতে একটি সন্ত্রাসী দল অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় প্রথমে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে আটক আরিফের কাছে থাকা একটি বিশেষ ব্যাগ থেকে পাঁচটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে আটক করা হয়। পরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুরো বাড়িটি ঘেরাও করে রাখেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। তারা বাড়িটিতে তল্লাশি জোরদার করেন। পরে আটক আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আরও নয়টি একই ধরনের পাইপ বোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ১৪টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, গত ১ আগস্ট আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তি এক নারীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ওই বাসা ভাড়া নেন। তারা নিজেদের প্রাইভেটকার চালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পাশাপাশি সন্তানদের পাশের একটি স্কুলে ভর্তি করানোর কথা জানান। পরিবার ভেবেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে বাসা ভাড়া নেওয়ার পর সেখানে তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন, সে বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু জানতেন না।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, আটক আরিফের কাছে থাকা বিশেষ একটি ব্যাগ থেকে প্রথমে পাঁচটি শক্তিশালী পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আরও নয়টি একই ধরনের পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা পাইপ বোমাগুলোর মূল রাসায়নিক উপাদান হিসেবে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এসএ




Comments