হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে ২২৯ জন শিক্ষার্থীর। একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অন্যজন সহকারী শিক্ষক। তাদেরই সামলাতে হচ্ছে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের তদারকির দায়িত্ব।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম। এতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষককে ছয়টি শ্রেণির পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিশু শ্রেণিতে ৪৪ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৩৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৩১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২৯ জন।
এ অবস্থায় মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ও পাঠদান কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র দেখেন। পরে শিক্ষক সংকট নিরসনে ডেপুটেশনের মাধ্যমে দুইজন শিক্ষক দেওয়ার কথা জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহিতাব চন্দ্র সুন্দর জানান, ছাতিয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন এবং পঞ্চমবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আরও একজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়ার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এখনো ওই দুই শিক্ষক রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।
তিনি বলেন, “ডেপুটেশনে দেওয়া শিক্ষকেরা কবে যোগদান করবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। দুইজন শিক্ষক দিয়ে ২২৯ জন শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু পাঠদান চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, “ডেপুটেশনে দেওয়া দুই শিক্ষক শিগগিরই বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন বলে আশা করছি। তারা যোগদান করলে শিক্ষক সংকট থাকবে না।”
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দুইজন শিক্ষককে একই সঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হওয়ায় প্রতিটি শ্রেণিকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, ২২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র দুইজন শিক্ষক থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে পড়তে পারে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, ডেপুটেশনে দেওয়া দুই শিক্ষককে দ্রুত রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক স্থায়ীভাবে পদায়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। এই স্তরেই শিক্ষক সংকট থাকলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধান চান বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
এসএ




Comments