মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল-পলিতা ইউনিয়নে নবগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হুংকার আর দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ আয়োজন ঘিরে নদীর দুই পাড়ে নামে মানুষের ঢল।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেরইল-পলিতা ইউনিয়নের নবগঙ্গা নদীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
গ্রামীণ এই ঐতিহ্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই মাগুরা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। নদীর ওপর নির্মিত সেতুতেও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। একপর্যায়ে সেতুটি যেন পরিণত হয় দর্শকদের গ্যালারিতে।
প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছয়টি রঙিন নৌকা অংশ নেয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঝিদের বৈঠার ছন্দে নৌকা এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য পুরো পরিবেশকে করে তোলে উত্তাল। এক নৌকা আরেক নৌকাকে পেছনে ফেলার মুহূর্তে দুই পাড়ে থাকা দর্শকদের মুহুর্মুহু উল্লাস ও করতালিতে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মেহেরুনন্নাহার। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন মাগুরা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি নাসির আহমেদ, সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শওকত মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য মুন্সি জসিম উদ্দিন।
সাবেক ইউপি সদস্য ও মেলা কমিটির আয়োজক মো. শওকত মিয়া বলেন, “আমাদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং তাদের মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিতেই নবগঙ্গা নদীতে এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাস আমাদের অভিভূত করেছে। স্থানীয় ১০ গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবছর আরও বড় পরিসরে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মেহেরুনন্নাহার বলেন, “নৌকা বাইচ বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির গভীর অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি যুবসমাজকে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এসএ




Comments