Image description

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না শিশু রোগীর অতিরিক্ত চাপ। ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ে ব্যাহত হচ্ছে শিশু ওয়ার্ডের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৩০ শিশু ভর্তি হয়েছে। আর গত তিন দিনে প্রায় ৩০০ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, নির্ধারিত শয্যায় জায়গা হচ্ছে না। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একদিকে অসুস্থ শিশুদের কান্না, অন্যদিকে স্বজনদের উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ওয়ার্ডের পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে নাজুক।

এর মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডে গরম বেড়ে যায়। এতে অসুস্থ শিশুরা ঘেমে অস্বস্তিতে পড়ে। পরে ঠান্ডা, জ্বরসহ নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্বজন।

অতিরিক্ত শিশু রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের নার্সরা জানান, প্রতিদিন যেভাবে শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাতে রোগীদের সেবা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তারপরও তাঁরা যথাসাধ্য সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

শিশু রোগীর স্বজন সাদিয়া আক্তার বলেন, “বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় গরমে শিশুরা ঘেমে যাচ্ছে। পরে ঠান্ডা ও জ্বর হচ্ছে। হাসপাতালে এসে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়।”

সোনিয়া খাতুন বলেন, “এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। শিশুদের নিয়ে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেও যদি গরমে থাকতে হয়, তাহলে স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।”

তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ জানান, তাঁর মেয়ে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। এতে শিশুরা আরও কষ্ট পাচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুদের অসুস্থতার কারণ নির্ধারণে শুধু গরম বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করা যায় না। শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শিশুদের অতিরিক্ত ঘামের বিষয়ে চিকিৎসক সাজিয়া আক্তার বলেন, শিশু বেশি ঘামলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন খাওয়াতে হবে। গরু বা ছাগলের দুধসহ কিছু খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অসুস্থ শিশুদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডেই যদি শয্যার সংকট থাকে, তার ওপর ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, তাহলে শিশুদের স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। রোগীর অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।

এসএ