পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টে লাইন
শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বলে টোলপ্লাজা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টে সংযোগ দিতে অন্তত ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় ও শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুটি সাবস্টেশন ও আটটি ফিডার রয়েছে। এসব ফিডারের মাধ্যমে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি এলাকায় ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টটির অবস্থান। আগে স্থানীয় একটি ফিডারের মাধ্যমে রেস্টুরেন্টটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তবে প্রায় পাঁচ মাস আগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ফিডার থেকে নতুন করে সংযোগ দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সংযোগ স্থাপনে অন্তত ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলে সেখানে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে বিষয়টি কারিগরি ও নিরাপত্তার দিক থেকে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান আল নাজির বলেন, ‘পদ্মা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এটি কেপিআই জোন হওয়ায় এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই সংযোগ থেকে বেশ কিছু খুঁটি স্থাপন করে একটি বেসরকারি রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়তে পারে। আমাদের প্রশ্ন, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংযোগ থেকে কীভাবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে সেনাবাহিনীর সার্ভিস এরিয়ার ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখন আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতাম। পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা হওয়ায় আমাদের সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ একটি ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়া হয়। এখন শুনছি, পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ থেকে ইলিশ পোলাও রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে করা হলো, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্ন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেস্টুরেন্টটির মালিক ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, আগে অন্য একটি ফিডার থেকে তার রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোড না থাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করা হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংযোগ দেয়। সংযোগ স্থাপনের সব খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন বলেও জানান।
ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি যদি নিয়মবহির্ভূত কিছু করতাম, তাহলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আমাকে সংযোগ দিত না। নিয়ম মেনেই সংযোগ নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, নতুন লাইন স্থাপনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুঁটিগুলোর কয়েকটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় বলেন, ‘আমাদের জায়গা ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এককালীন ভাড়া পরিশোধের শর্তে অনুমতি চেয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী তাদের জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান বলেন, ‘গ্রাহকের অর্থায়নে লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় ওই ফিডার থেকে রেস্টুরেন্টটিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার আশপাশে অন্য কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাইলে কারিগরি বিষয় বিবেচনা করে সংযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলে দেওয়া হবে। আমরাও চাই, পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকুক।’
জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেওয়া সাধারণত পরিহার করা হয় বলেও জানান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই কর্মকর্তা।
এসএ




Comments